হাওজা নিউজ এজেন্সি: আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ি বলেন, ইরান সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন ও হিসাব-নিকাশ ভুল ছিল এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধ অবসানে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের স্বার্থের জন্যই ভালো হবে। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে ইরান অবগত এবং দেশটি মার্কিন বিমান হামলা মোকাবিলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত। ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে তেহরান।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি
রেজায়ি জানান, সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির কাছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। আত্মরক্ষার বিষয়ে ইরান দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের স্বার্থে আরও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
এসএনএসসির সচিব বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে। আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য ইরানের শর্ত তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনে পুনরায় পাঠানো হয়েছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসার যৌক্তিকতা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন রেজায়ি। তবে চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
রেজায়ি বলেন, ইরান প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার গণবিধ্বংসী অস্ত্র অর্জন নিষিদ্ধকারী ফতোয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। দেশটির পারমাণবিক নীতিতেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ইয়েমেন-সৌদি যুদ্ধ অবসানের আহ্বান
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার যুদ্ধ প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, ইরান এ সংঘাতের অবসান চায়। তাঁর মতে, ইয়েমেনিরাও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
আপনার কমেন্ট